Tuesday, February 23, 2016

কুরআন পাঠের ফজিলত


পৃথিবীর
 সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরআনকুরআন শব্দের অর্থপাঠ করাযা পাঠ করা হয় আর পরিভাষায়-আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানব জাতির হেদায়াত হিসাবে রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন তার নাম আল-কুরআন এটি অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বমানবতার মুক্তিসৎ আরসত্যের পথ দেখানোর জন্য অন্ধকারাচ্ছন্ন এক বিভীষিকাময় জাহেলি সমাজে কোরআন এনেছিল আলোকময় সোনালি সকালকুরআন আল্লাহ্ বাণী সৃষ্টিকূলের ওপর যেমন স্রষ্টার সম্মান  মর্যাদা অপরিসীমতেমনি সকল বাণীর ওপর কুরআনেরমর্যাদা  শ্রেষ্ঠত্ব অতুলনীয় মানুষের মুখ থেকে যা উচ্চারিত হয়তার মধ্যে কুরআন পাঠ সর্বাধিক উত্তম এখানে পয়েন্টআকারে কিছু ফজিলত বর্ণিত হচ্ছে
কুরআন আল্লাহর কিতাব :
আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানবতার হেদায়াতের জন্য যেসব কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেগুলোকে আসমানী কিতাব বলা হয়আলকুরআন হলো সর্বশেষ আসমানী কিতাবযা বিশ্বমানবতার জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে আল্লাহ তাআলা বলেন :﴿ وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلعَٰلَمِينَ﴾ [الشعراء : ١٩٢অর্থ: ‘‘নিশ্চয়  কুরআন বিশ্ব জাহানের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে’’ [সূরা আশ-শুআরা-১৯২]
কুরআন পাঠের প্রতিদান : রাসূল (সা.) বলেনযে ব্যক্তি পবিত্র কুরআনের একটি অক্ষর পড়বেসে একটি নেকী পাবে আরএকটি নেকী দশটি নেকীর সমপরিমাণ (তিরমিজি)
কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠযে আল কোরআননিজে শেখে  অন্যকে শেখায়’ (বোখারি) 
 হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ানো এবং তেলাওয়াতের কারণে আমার কাছে কিছুচাইতে পারল নাআমি তাকে প্রার্থনাকারীর চেয়েও বেশি দান করি
রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে হৃদয়ে আল কোরআনের কোনো অংশ নেইসে হৃদয় বিরান গৃহের ন্যায়’ 
কুরআন শিক্ষা করামুখস্থ করা  তাতে দক্ষতা লাভ করার ফজিলত : নবী করীম (সা.) বলেনযে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবেএবং তা মুখস্থ করবে এবং (বিধি-বিধানেরপ্রতি যত্নবান হবেসে উচ্চ-সম্মানিত ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান করবে আর যেব্যক্তি কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কুরআন পাঠ করবে এবং তার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবে সে দ্বিগুণ ছওয়াবের অধিকারী হবে(বুখারীমুসলিম)

অন্যত্র তিনি আরও বলেনকিয়ামত দিবসে কুরআন অধ্যয়কারীকে বলা হবেকুরআন পড় এবং উপরে উঠো যেভাবেদুনিয়াতে তারতীলের সাথে কুরআন পড়তে সেভাবে পড় যেখানে তোমার আয়াত পাঠ করা শেষ হবেজান্নাতের সেই সুউচ্চস্থানে হবে তোমার বাসস্থান (তিরমিজি)

ইমাম খাত্তাবী (রহ.) বলেন হাদীসে এসেছে যেজান্নাতের সিঁড়ির সংখ্যা হচ্ছে কুআনের আয়াতের সংখ্যা পরিমাণ কুরআনেরপাঠককে বলা হবেতুমি যতটুকু কুরআন পড়েছ ততটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠ যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ কুরআন পড়েছেসে আখেরাতেজান্নাতের সবশেষ সিঁড়ির ধাপে উঠে যাবে যে ব্যক্তি কুরআনের কিছু অংশ পড়েছে সে ততটুকু উপরে উঠবে অর্থাৎ যেখানেতার পড়া শেষ হবে সেখানে তার সওয়ারের শেষ সীমানা হবে
যার সন্তানে আল-কুরআন শিক্ষা করবে তার প্রতিদান : নবী করীম (সা.) বলেনযে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করবেশিক্ষাকরবে  তদানুযায়ী আমল করবেতার পিতা-মাতাকে দুটি পোশাক পরিধান করান হবেযা দুনিয়ার সকল বস্তুর চেয়ে অধিকমূল্যবান তারা বলবেকোন্‌ আমলের কারণে আমাদেরকে এত মূল্যবান পোশাক পরানো হয়েছেবলা হবেতোমাদের সন্তানেরকুরআন গ্রহণ করার কারণে (হাকেম)
পরকালে কুরআন সুপারিশ করবে : রাসূল (সা.) বলেনতোমরা কুরআন পাঠ কর কেননা কিয়ামত দিবসে কুরআন তারপাঠকের জন্য সুপারিশকারী হবে (মুসলিম)
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছেআল্লাহ্ রাসূল (সা.) বলেনকিয়ামতের দিন সিয়াম  কুরআন বান্দার জন্য আল্লাহ্ কাছে সুপারিশকরবে (আহমাদহাকেম)
কুরআন তিলাওয়াতঅধ্যয়ন এবং কুরআন নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার জন্য একত্রিত হওয়ার ফজিলত : রাসূল (সা.) বলেন,কোনো সম্পদ্রায় যদি আল্লাহ্ কোনো ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং তা পরস্পরে শিক্ষা লাভ করেতবে তাদেরওপর প্রশান্তি নাজিল হয়আল্লাহ্ রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে আল্লাহ্‌ তাঁরনিকটস্থ ফেরেশতাদের সামনে তাদের কথা আলোচনা করেন (মুসলিম)
কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব
কুরআন শিক্ষা ফরয :প্রত্যেক মুসলিমকে কুরআন পড়া জানতে হবে যে নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করবে তাকে অবশ্যই কুরআন শিক্ষা করতেহবে কুরআন শিক্ষা করা এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেআল্লাহ তাআলা কুরআন শিক্ষা করা ফরয করে দিয়েছেন আল্লাহতাআলা বলেন﴿ ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١ ﴾ [العلق١অর্থ: ‘পড় তোমার রবের নামেযিনি সৃষ্টি করেছেন’ [সূরা আলাক : ] কুরআন শিক্ষায় কোন প্রকার অবহেলা করা যাবে না উম্মাতকে কুরআন শিক্ষার নির্দেশ দিয়ে ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুবলেন,
«
تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ ، وَاتْلُوهُ»অর্থ:‘তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তিলাওয়াত কর’ [মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবাহ:৮৫৭২]